:

হাঙ্গেরি: ১৬ বছরের অর্বান শাসনের পতন, পিটার মাগিয়ার বিজয়ী

top-news

ইউরোপের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী এবং বিতর্কিত শাসক ভিক্টর অর্বানের ১৬ বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটল।

১২ এপ্রিল (রবিবার) অনুষ্ঠিত হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে রক্ষণশীল দল ‘ফিদেজ’-কে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পিটার মাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দল **‘তিসা’ (Respect and Freedom - TISZA)**।

পার্লামেন্টের ১৯৯টি আসনের মধ্যে ১৩৮টি আসনেই জয় পেয়েছে ‘তিসা’ পার্টি, যা দেশটিতে একটি ‘সুপার-মেজরিটি’ বা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, অর্বানের ফিদেজ পার্টি মাত্র ৫৫টি আসন নিয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই গণরায় মূলত অর্বান সরকারের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী কয়েকটি প্রধান কারণ এই পটপরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে: দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার: দীর্ঘ দেড় দশকে অর্বান ও তার ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করার যে অভিযোগ ছিল, তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছিল। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয়: বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ তরুণ প্রজন্মকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মানুষ পরিবর্তনের জন্য মরিয়া ছিল। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখে ভোটাররা পিটার মাগিয়ারের ‘স্বচ্ছ ও আধুনিক’ হাঙ্গেরি গড়ার প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখেছেন।

পিটার মাগিয়ারের লক্ষ্য: ‘নতুন এক হাঙ্গেরি

বিজয়ী ভাষণে পিটার মাগিয়ার হাঙ্গেরিকে ইউরোপের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন। তার দলের প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো: দুর্নীতি নির্মূল: সরকারি প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি দূর করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার: বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। ইইউ-এর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন: অর্বান সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ইউরো তহবিল ফিরিয়ে আনা। 

অর্বানের বিদায় ব্রাসেলসের জন্য এক বিরাট স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন হাঙ্গেরি ইইউ এবং ন্যাটোর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে (বিশেষ করে ইউক্রেন সহায়তা ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা) ভেটো দিয়ে আসছিল। মাগিয়ারের জয়ে ইইউ এখন অনেক বেশি সংহত ও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে এই জয়কে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেক নেতার মতে, এটি ইউরোপে উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতির জোয়ারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী চপেটাঘাত।

ভিক্টর অর্বান পরাজয় মেনে নিলেও ভবিষ্যতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ায় মাগিয়ার সরকার সহজেই সংবিধানের বিতর্কিত ধারাগুলো পরিবর্তন করতে পারবে। মধ্য-ইউরোপের রাজনীতিতে এই পরিবর্তন কেবল হাঙ্গেরির জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *